মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল

  

  

কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

             বাংলা মায়ের একই অংগে শতরূপ,তারই একটি রূপ কাদিরাবাদ। এর চির হরিতের কোলে কুল কুল রবে বয়ে যাওয়া স্রোতস্বিনী বড়াল। এর ধারে ঐতিহ্য মন্ডিত একটি শিক্ষানিকেতন তিলে তিলে গড়ে উঠেছে। ভাংগা গড়ার অনেক ইতিহাস, অনেক ঘটনা পেরিয়ে আজকের এ পাবলিক স্কুল।

             অতীতের সাক্ষী এ বিদ্যালয়টি ১৯২৮ সনের কোন এক শুভলগ্নে শিক্ষানুরাগী দয়ারামপুরের তদানীমতন জমিদার কুমার শরৎ কুমার রায় বাহাদুর তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা কুমার বসমত কুমার রায়ের নামে প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠালগ্নে বিদ্যালয়টি এম ই স্কুল হিসাবে চালু ছিল। কুমার বসমত কুমার রায়ের নামানুসারে বিদ্যালয়টির নামকরন করা হয়েছিল দয়ারামপুর কে,বি,কে,এম,ই স্কুল।

            কালক্রমে কুমার শরৎ কুমার রায় বাহাদুরের পুত্রগণ এ দেশ থেকে ভারতে চলে যাবার পর বিদ্যালয়টির পরিচালনার গুরুভার স্থানীয় জনসাধারনের উপর ন্যস্ত হয়। ইতিহাসের স্রোত ধারার মধ্যে দিয়ে ১৯৬২ সনে বিদ্যালয়টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রূপামতরিত হয় এবং স্থানীয় জনসাধারনের আমতরিক প্রচেষ্টায় উহা ১৯৭০ সনে পূর্নাঙ্গ উচচ বিদ্যালয়ে রূপ লাভ করে।

             একটি পূর্নাঙ্গ উচচ বিদ্যালয় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় স্থান সংকুলানের অসুবিধাহেতু ১৯৭০ সনে স্থানীয় শিক্ষামোদী জনসাধারণের ঐকামিতক প্রচেষ্টায়  বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় (বর্তমানে কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট স্যাপার কলেজ)। এ ব্যাপারে নাটোরের তদানীমতন মহকুমা প্রশাসক জনাব কামাল উদ্দিন আহম্মেদের আবদান বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য। পরবর্তী পর্যায়ে কাদিরাবাদ সেনানিবাসের তৎকালীন ১৫তম গোলন্দাজ বাহিনীর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল (বর্তমান অবঃ মেজর জেনারেল) সরদার আলী হাসান এর উদ্যোগে উত্তর বঙ্গ এরিয়ার প্রাক্তন এরিয়া কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার (অবঃ) আব্দুল লতিফ মহোদয়ের সক্রিয়  ভূমিকায় রাজশাহী বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় কমিশনার জনাব শফিউল আলম, রাজশাহী বিভাগীয় উন্নয়ন বোর্ডের তহবিল হতে বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার জন্য ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা মঞ্জুর করেন। ১৫তম গোলন্দাজ বাহিনীর পরবর্তী প্রাক্তন অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল (অবঃ) দিলাওয়ার হোসেন এর তত্ত্বাবধানে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয় এবং ১৯৭৭ সনের জুলাই মাসে রাজশাহী তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার জনাব শফিউল আলম নবনির্মিত বিদ্যালয় ভবনটির শুভ উদ্বোধন করেন।

             পরবর্তী পর্যায়ে বিদ্যালয়টির নতুন অগ্রযাত্রা শুরু হয়। এ সময়ে কাদিরাবাদ সেনানিবাস কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টির জন্য বিদ্যালয়টি ক্যান্টঃ বোর্ডের আওতাধীন করে নেওয়ার প্রচেষ্টা চলে এবং ১৯৮৩ সনের মে মাসে তদানীমতন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক তথা গণপ্রজাতমত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি লেঃ জেনারেল আলহাজ্ব হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বিদ্যালয়টি ক্যান্টঃ বোর্ডের অধীনে নেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। তাঁর নির্দেশক্রমে ১৯৮৩ সনের আগস্ট মাসে অনেক সুখ-দুঃখের ইতিহাস পিছনে ফেলে কাদিরাবাদ সেনানিবাস কর্তৃক বিদ্যালয়টি গৃহীত হয়। এক বছর সেনানিবাসের পরিচালনাধীন থাকার পর ১৯৮৪ সনের জুলাই মাসে বিদ্যালয়টি পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড।

           অতঃপর ১৯৮৬ সনের জুলাই মাসে বিদ্যালয়টি পাবলিক স্কুল হিসাবে রূপামতরিত হয় এবং গণপ্রজাতমত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির নামানুসারে ‘‘এরশাদ পাবলিক স্কুল’’ কাদিরাবাদ সেনানিবাস নামকরণ করা হয় এবং পরবর্তীতে কাদিরাবাদ সেনানিবাস এর পশ্চিম পার্শ্বে কাদিরাবাদ-বাগাতিপাড়া থানা সড়কের উত্তর পার্শ্বে, মনোরম পরিবেশে এরশাদ পাবলিক স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণের পদক্ষেপ নেয়া হয়। সামরিক ভূমি ও সেনানিবাস অধিদপ্তরের অনুদানে প্রায় ৫৫ (পঞ্চান্ন) লক্ষ টাকা ব্যয়ে ক্যান্টঃ বোর্ড বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ সমাধা করে এবং নবনির্মিত ভবনে সেপ্টেম্বর’৮৯ হ’তে শ্রেণী কার্য চালানো হচেছ এবং ১৯৯২ সনে ৫৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে উপর তলায় ৩টি শ্রেণী কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে সাভূসে অধিদপ্তরের অনুদানে  আসবাবপত্রসহ উপর তলার ৯টি শ্রেণী কক্ষের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।

             সর্বশেষ ১৯৯৮ ইং সনে স্কুলের পূর্ব নাম পরিবর্তন করে ‘‘কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল’’ নামকরণ করা হয়।