মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

শাঁখাশিল্পে বাগাতিপাড়া

বাগাতিপাড়া উপজেলার মালঞ্চি একসময় একটি পরগণা ছিল। আর উপজেলা সদর হতে প্রায় ১৫ কিঃমিঃ দূরে জামনগর ইউনিয়ন পরিষদের শাঁখারিপাড়া গ্রাম অবস্থিত। শাঁখাশিল্পের জন্য প্রসিদ্ধ জামনগর আজ শুধুই স্মৃতি। তবুও এ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায় কিছু অতীত স্মৃতি আকড়ে ধরে আছে। শাঁখাশিল্পের মাধ্যমে এ এলাকার জনসাধারণ তাদের জীবীকা নির্বাহ করছে। জামনগরের এ শাঁখাশিল্প ভগ্নাবস্থায় শুধু অতীত চিহ্ণকে ধরে আছে।

 

জামনগর শাখাশিল্পের ইতিহাস

 

নাটোর জেলার অর্ন্তগত বাগাতিপাড়া উপজেলার ২নং জামনগর ইউনিয়নে ছোট্র একটি গ্রাম জামনগর ।বর্তমানে এটি মুসলিম অধ্যুষিত হলেও  অতি প্রাচীন কাল হতে জামনগর গ্রামটি ছিল হিন্দু অধ্যুষিত। তাদের মধ্যে কামার, কুমার, জেলে, শাওতাল ও শাখারীর বসবাস অন্যতম। প্রায় ২০০ বছর ধরে অদ্যাবধি নিজ নিজ পেশার কার্যক্রম চালিয়ে তারা নিজেদের জিবীকা নির্বাহ করে আসছে। কালের বির্বতনে শাখারী ছাড়া অন্যান্য পেশাজীবিদের সংখ্যা দাড়িযে কোনটা শূন্যের কোটায় এবং কোনটা অতি নগন্য। তাই শাখাশিল্পের নামানুসারে একটি পাড়ার নাম হয়েছে শাখারীপাড়া । বর্তমানে উক্ত গ্রামে  শাখারীদের প্রায় ১১০ টি পরিবার সঙ্খ শিল্পের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। তাদের মধ্যে মাত্র ১০টি পরিবার স্বচ্ছল । অবশিষ্ট ১০০টি পরিবারই দু:স্থতার তালিকায় নাম লিখা যায়। দু:স্থ পরিবারের সদস্যরা অনেক কষ্টে বিভিন্ন এনজিওদের নিকট হতে ঋণ গ্রহন করে শংখ খরিদ করে। কেউ হাতে ঘসে, কেউ মেশিনের দ্বারা ঘসার কাজ চালিয়ে চুড়ি ও আংটি তৈরী করে দেশের বিভিন্ন জেলায় যেমন রংপুর, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, নওগা সহ দেশের হিন্দু প্রধান এলাকায় ফেরী করে বিক্রি করে যে উপার্জন হয় তা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ ও ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালায়। এক জোড়া শাখার চুরি ৫০টাকা হতে ৩০০০/-টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হচ্ছে। তাহলে অল্প পুজি নিয়ে উচ্চ দামের শংখ কিভাবে কিনবে।  হস্তশিল্পের কারুকার্য্য করে বাজারে বা ফেরী করে পুজি গুছিয়ে বাইরোটেশনে পুনরায় শংখ ক্রয় করে মেশিন দিয়ে কাটা এবং চুরি ঘসার কাজ করতে মাস ঘুরে যায়। এইভাবে চলে তাদের জীবনযাত্রা। যে কয়জন স্বচ্ছল ব্যক্তি আছে তারা বিভিন্ন শহরে অন্যান্য ব্যবসা করে, ২/১ জন এলসির মাধ্যমে শ্রীলংকা থেকে শংখ আমদানী করলেও অর্থের সংকুলান মেটাতে অনেক সংকট সৃষ্টি হয়। কাজেই স্বচ্ছল ও অস্বচ্ছল উভয়েরই বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচেছ। যা কিনা এ গ্রামের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করছে। এই শাখা শিল্পিদের যদি সরকারী অনুদানে স্বল্প সুদে ঋণ পাবার ব্যবস্থা করা যেত তাহলে তারা নতুন ভাবে শাখা শিল্পের ব্যবসা করতে পারতো এবং তাদের পরিবারে আসতো স্বচ্ছলতা।